মো. ইসমাইলুল করিম নিজস্ব প্রতিবেদক:
পার্বত্য জেলার বান্দরবানের লামায় ফাইতং ইউনিয়ন ৮নং ওয়ার্ড হরিণ খাইয়্যা সহ উপজেলা বিভিন্ন ইউনিয়ন বড়-বড় পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বন্যহাতির দল প্রায়ই হানা দিচ্ছে। স্থানীয়রা বলছেন সোমবার (২৭ আগষ্ট) রাতে, কলা গাছ,জুমের ধান ক্ষেত ও চলতি আমন ধান খেতে প্রতি রাতেই বেশ কয়েক জন কৃষকের ক্ষেতে জুমের ধান ক্ষেত নষ্ট করেছে বন্যহাতির পাল। অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন পাহাড়ি এলাকার মানুষ। গ্রামবাসীরা তাদের জানমাল রক্ষায় নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন। অন্যদিকে, বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় তৎপরতা রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা। স্থানীয় কৃষকরা বলেন, কয়েকটির বন্যহাতির পাল খাবারের সন্ধানে উঠতি আমন ধানক্ষেতে হানা দিচ্ছে। এ সময় হাতির দল আমন ধানক্ষেতের থোরধান খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে নষ্ট করে দিচ্ছে। তাই চলতি আমন ফসল রক্ষায় কৃষকরা রাতে মশাল জ্বালিয়ে, ঢাকঢোল বাজিয়ে, টিন পিটিয়ে ও হই-হোল্লোর করে ধানক্ষেত পাহারা দিচ্ছেন। কলা বাগান কৃষক মো. ওমর ফারুক বলেন, দিনের বেলায় বন্যহাতির পাল গহীন অরণ্যে লুকিয়ে থাকে। আর সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলেই খাদ্যের সন্ধানে বাড়িঘর ও ফসলের মাঠে তাণ্ডব চালায় আমার কলা বাগানে নষ্ট করে প্রায় ১ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার ওদিক ক্ষয়ক্ষতি করে চলে যায়। এ সময় ক্ষুধার্ত বন্যহাতিগুলো তাড়াতে গেলে তারাও মানুষের ওপর আক্রমণ চেষ্টা করে। চলমান ২/১ বছর মধ্যে হাতির পায়ে পিষ্ট হয়ে মানুষ মারা হয়েছে। বন্যহাতির তাণ্ডব থেকে ফসলের ক্ষেত রক্ষা করতে গ্রামের লোকজন পালাক্রমে রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন। অনেক গ্রামের বাসিন্দাদের এখন নির্ঘুম রাত কাটছে। বন্যহাতির তাণ্ডব থেকে ফসলের ক্ষেত রক্ষা করতে তারা ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন। অনেক ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বলেন, সম্প্রতি প্রায় অর্ধশতাধিক বন্যহাতির একটি পাল খাবারের সন্ধানে পাহাড়ি গ্রামের ১০-১৫ জন কৃষকের আমনের ক্ষেত ও সামাজিক বনায়নের চারাগাছ নষ্ট করেছে। হাতিগুলো এলাকার ফাইতং হরিণ খাইয়্যা সহ পাহাড়ে নামক গভীর জঙ্গলে অবস্থান করছে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসলেই লোকালয়ে হানা দিচ্ছে। এ সময় গ্রামের লোকজন মশাল ও খড় জ্বালিয়ে, বাঁশি বাজিয়ে, হইচই করে, ঢাকঢোল পিটিয়ে এবং পটকা ফাটিয়ে হাতি তাড়ানোর চেষ্টা করছেন। ভুক্তভোগী আরেক কৃষক বলেন, বন্যহাতির অব্যাহত তাণ্ডবে অতিষ্ঠ আমরা। ফসল নষ্ট হওয়াতে আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছি। কৃষি ফসল ও চাষাবাদই আমাদের প্রধান আয়ের পথ। সেটিও এখন হুমকিতে পড়েছে। এছাড়া আশপাশের এলাকার কৃষকরাও হাতি আতঙ্কে রয়েছেন। তিনি বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় সরকারিভাবে স্থায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করার দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা জানান, প্রতিবছর বন্যহাতির পাল খাবারের খোঁজে লোকালয়ে এসে ফসল নষ্টের পাশাপাশি প্রাণহানি ঘটাচ্ছে। এই হাতিগুলো তাড়ানোর জন্য স্থায়ী কোনো ব্যবস্থা এখন পর্যন্ত নেয়া হয়নি। ফলে পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষ ও কৃষকরা হাতির ভয়ে নির্ঘুম রাত কাটান। এর একটি স্থায়ী সমাধান হওয়া দরকার। লামায় ফরেস্ট রেঞ্জ ফাইতংয়ে বিট কর্মকর্তা শাহাদাত হোসেন খাঁন বলেন, বন্যহাতির পাল দিনে উপজেলার পাহাড়ি এলাকার গভীর জঙ্গলে অবস্থান করে। আর সন্ধ্যা হলেই খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে আসে। আমরা বন্যহাতি ও ফসল রক্ষায় তৎপর রয়েছে আমাদের টিম। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা বন বিভাগের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করে সরকারিভাবে ফসলের ক্ষতিপূরণ পাচ্ছেন পাবে। তাই তিনি বন্যহাতিকে উত্ত্যক্ত করতে নিষেধ করেছেন।
All rights reserved © 2020 paharechok.com||
এই ওয়েবসাইটের কোন লেখা, ছবি, ভিডিও অনুমতি ছাড়া ব্যবহার বেআইনি